Poems published in ILF’s 1st book- “ILF 100-TE / 100”

 

Forbidden Pleasures
     -Padmini Dutta Sharma

Urge of the ants for the spark
Or the yearning of today for tomorrow
Is akin to the
Impulse of the diabetic for the sweet
Or the desire of the toddler for the adolescent
Or the lust of the impotent for the flesh
Or the greed of the have nots for the riches
Or the craving of the dying for life
Or the hankering of the retarded for power
Or the longing of the doomed for light
An unending list
Propelled by an insatiable dilemma
To have the best
Something akin to cancer
That spreads faster than fire
Mutilating every cell to the core…

Our desires provokes, destroys, shatters
Turning us unto savage beasts
Insane, blood thirsty, barbaric
Unhesitant to eliminate
Anyone that come in the way
Not fearing Karma
Not scared of natural justice
Not ready to yield …

The other side equally aggressive
Waits for its turn and time
Tip toeing they come as nemesis
Overtaking the foe
Their senses, sensibilities, intuition
Till everything plummets with a thud
For some short term gains…

The brain dictates every organ
To snub or curb
To be agile or docile
To progress or retreat
To hunt or be hunted
Decision is based on impulse or motive
Winning or losing is all fair
Cascading effect they say
Yet squarely the blame is put on some other factor
Mostly luck!

The pleasures continue to provoke unabated
Fire ablaze aggravates, rising higher and higher
No matter what
No matter how
Till our irresistible desires reach the peak
And we commit the gravest of sins
The most heinous crime
Even incest maybe, but who cares
Till we reach our doom
To perish with an eternal longing into dust!

………………………………………………………………………….

ব্যর্থ প্রেম

–অরুনা রায় মজুমদার

ঝগড়া বিবাদ শূন্যতা ব্যর্থ প্রেম
নিঘুম বিষাদ নৈরাশ্য বহ্নি ফ্রেম ,
বিশ্বাস আশ্রয় একাকী কল্প দেশ ?
ক্রন্দনে ক্ষয়ীত মায়াবী স্বল্প বেশ
অতীত দর্শনে , হৃদয় নিবেদন
পুরানো প্রেম যে অবাধ্য আবেদন ।

বিফল চাহিদা অনীহা অনুতাপ
নতুন জীবন গড়তে দৃষ্টিমাপ ,
প্রাক্তনের স্বাচ্ছন্দ পূর্ণতা পরিকল্প
আশ্রয় বিষন্ন হতাশা শ্রুতি গল্প !
বিরহে নিঝুম ভাবনা তারা গোনা ?
নীলিমা নক্ষত্র কুহুক সুরশোনা ।

ব্যর্থতা মহত্ব হারানো বেনো জলে
সহিষ্ণু অজান্তে ঘাতক তিক্ত ফলে ,
হাজার যন্ত্রণা অগ্রাহ্য অনাদর ?
নিমিষে অসহায় মধুর দৃষ্টি পরে অতঃপর
গোপন অন্তরে সৌভাগ্য স্মৃতি রবে
অসংখ্য হারানো মায়াবী সুখ যবে ।

ব্যর্থতা প্রেম যে শুধুই অশ্রু ঝরে
কান্না যে আধার ঘনিয়ে বৃষ্টি পড়ে !
বিরহ বর্ষণ বিলীন প্রতিরাতে
অজানা নিশানা আঘাত মতবাদে ,
সত্যতা যাতনা সম্পর্ক কষ্ট জ্বালা
বিচ্ছেদ ঘৃনতা এ ব্যথা ক্ষিপ্ত মালা ।।

………………………………………………………………………..

 

आज पूरे दिन कुछ भी नहीं लिखा

        –देवाशीष बनर्जी

आज पूरे दिन कुछ भी नहीं लिखा
रवि ! तुम्हारे लिए।
आज दिनभर कुछ भी नहीं लिखा
सिर्फ तुम्हारे लिए।

आज पूरे दिन घुमा हूं एक मंच
से दूसरे मंच तुम्हारे लिए
आज दिन भर सुनाया कविता
नृत्य गीत और भी तुम्हारे लिए ।

आज दिनभर पूजा करता रहा
एक मंडप से दूसरे मंडप में तुम्हारे लिए।
आज दिनभर कविता सुनाता रहा
एक मंच से दूसरे मंच में तुम्हारे लिए।

आज दिनभर गंगा में किया है गंगा की पूजा
तुम्हारा जन्मदिन में 25 के लिए।
आज दिन भर तुम्हारी बात लेकर चढ़ाया
फूल माला तुम्हारी तस्वीर में तुम्हारे लिए।

आज दिनभर सुबह से रात तक घुमा हूं
एक रवींद्रनाथ से दूसरे रविंद्र नाथ भीड़ में।
आज दिनभर माला गुंथा हूं
पहनाया हूं तुम्हारे गले वो तुम्हारी तस्वीर मे।

आज दिन भर देखा नहीं कहां है तुम्हारी माता।
जाया भ्राता भगिनी पुत्र या पुत्री
आज पूरे दिन में एक भी कविता नहीं लिखा
एक लाइन भी नहीं लिखा तुम्हारा जन्मदिन में।

………………………………………………………………………………

আত্মোপলব্ধি
 — নীলিমা বিশ্বাস পাল

নির্জন দুপুরে বিষন্নতা অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে জীবনের মানে অনুভবে ঘিরেছিল।

নিয়ন বাতির শহরে জানালার ফাঁক দিয়ে জোছনার মায়াবী রূপ বিষাদের চাদরে মুড়ে রেখেছিল।

গভীর নিশীথে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছিলাম একাকীত্বের মূর্ছনা।

নিদ্রাহীন নীরবতায় হাতড়ে বেড়াই আদর মাখানো হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি।

আমি দুহাতে স্পর্শ করতে চাই, পারি না,হেরে যাই, নির্বোধের মতো নিজেকে বোঝায়।

জীবনের সাঁঝবেলায় আমার ভাবনা কল্পনায় ধরা পড়ে অসঙ্গতি।

আমার সুগভীর চেতনা খসে পড়া পলেস্তারায় হীন মানসিকতায় হাঙ্গরের মতো গিলতে আসে।

নীতি হীনতার লড়াই, নিস্তব্ধতার মাঝে অকাট নীরবতা হেসে চলে সময়ের মায়াজালে।

নানা রঙের রঙীনতায় দিনগুলোকে সাজায় এই দুঃসময়ের মাঝেও।

নিঃসঙ্গ রিক্ত হৃদয়ে আপন মনে উপলব্ধি করি এরই নাম জীবন!

সময়ের ভীড়ে বিষন্নতায় ক্লান্ত অবসাদ গ্রস্ত শরীর টাকে কুণ্ডলী পাকিয়ে এগিয়ে চলি পৃথিবীর রথে।

পার্থিব অপার্থিব নিয়মে একসময় মৃত্যু আলিঙ্গন করবে।

বন্ধুর আমন্ত্রণ ফেরানোর দুঃসাহস থাকবে না, নির্বোধ মনে হবে।

…………………………………………………………………………

Value of Friendship

-Chandrani Bhattacharya

Friendship is not a simple word,
As it can win this world,
Nothing is precious than Friendship is,
Not at all diamonds and rubies…

…………………………………………………………………………

মায়ের আগমন
    –রীনা ভৌমিক

শিউলি ঝরা ভোরের উঠোন
আর শিশির ভেজা ঘাসে
কাসের বনে লাগলো দোলা
শরৎ অপূর্ব রূপে সাজে,
উমা আসছে নিজো ঘরে
ছেলে-মেয়েদের সাথে নিয়ে
শঙ্খ নিনাদ উলুধ্বনি –
বোধনের সুর বাংলার ঘরে ঘরে,
ভুবন আবার উঠবে ভোরে
সুখ – শান্তি – আনন্দে,
এই কামনা করেই আমরা
অঞ্জলি দেব তোমার চরণে।

…………………………………………………………………………….

Where I live…

–Upama Ghosh

I like where I live
out loud in the rain,
with a whirlpool of broken dreams.
I like where I live
up in the mountains, above the tree-house.
I like where I live,
where truths and lies lie together
but only truth can be told with sheer wisdom.
I like where I live,
where fake & reality stay in unison
but reality pays off.

I like where I live,
where coffee is being served piping hot
on even hot sultry mornings,
I like where I live
where flowers speak to me & freedom is like ripples floating in the air.

…………………………………………………………………………………

 

আমার দুগ্গা
-অঞ্জলি বেলেল

ওহে শরতের মেঘ!
ওহে শিউলি ফুল!
ওগো পদ্মফুলের দল-
শুনেছি তোমরা এলেই নাকি দুগ্গা আসে,
কিন্তু আমার দুগ্গা?
কবে আসবে?
কবে আসবে আমার দুগ্গা?
তোমরা কি কেউ জানো কবে আসবে?
ওগো কাশফুল! ওগো কাশফুল!
তোমাকে দেখতেই তোমার কাছে,
ছুটে গেল আমার মেয়েটা..
কিন্তু আর এলোনা গো,
কাশের বন থেকে সেই যে গেল –
আর এলোনা মেয়েটা।
দিন গেলো,মাস গেলো, বছর ঘুরল..
আর আসেনি আমার দুগ্গা।
চলে গেল বছর পাঁচ পাঁচটা।
কত শরৎ এসেছে, শিউলি এসেছে
ঢাকী এসেছে,পদ্ম,সাপলা সবাই,
কিন্তু আমার দুগ্গা?
কেউ বলে রেল লাইনের পাশে…
কেউ বলে ওই মানুষখেকো জানোয়ার গুলো
কত থানা,কত পুলিশ,
কত মোমবাতি,কত মিছিল,
একদিন সবাই চুপচাপ
কিন্তু আমার বুকের কান্না!
ভেতরের যন্ত্রনা!
প্রতি বছরের মতো এবারও আলোর মালায়
সাজবে গ্ৰাম, সাজবে শহর।
ঘোড়ায় আসবে মা, ঘোড়ায় যাবে ফিরে।
প্রদীপ জ্বলবে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে,
কিন্তু আমার!
সেই এগারো বছরের দউগ্গআতও
আর ফিরবে না আমার কোলে।
মাগো তোমার ভুবনে একি সর্বনাশের খেলা,
আমাদের দুগ্গারাই রে একদিন তোদের ও
মেয়ে হবে,কবে বুঝবি নরখাদকেরা?
তোমাদের সকলের কাছে আমার প্রার্থনা
প্রতিমা মতই প্যান্ডেলে আসুক,
হোক আগমনী গান,
করুক সবাই সাজ,
আমাদের এই দুগ্গাগুলোকে রক্ষা করাই
আজ তোমাদেরই কাজ।

…………………………………………………………………..

যত দেখি

  -ত্রিদিবেশ দে

মেয়েটির চেহারাতে সত্যি এক অন্যধরনের মায়া,
যত দেখি ততই প্রেমে
কপালে ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিয়ে
বললাম ভালোবাসি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,
যত দেখি ততই প্রেমে পড়ে যাই। তোমার ভালোবাসার পরশ দিয়ে
ক্ষতটা সারিয়ে দিতে পারি। ভালোবাসা গুলো এমনি হয়ে থাকে নিঃস্বার্থ,
যত দেখি ততই প্রেমে পড়ে যাই।
বুকের অতলে শান্তির শীতল পাটিতে,
মোহনীয় সৌরভে মন মুগ্ধতায় আকুল হয়ে
যত দেখি ততই প্রেমে পড়ে যাই।
তোমার মায়াবী আঁখির দৃষ্টি রেখায়
রূপের রশ্মিতে আলোকিত হৃদয়ে,
যত দেখি ততই প্রেমে পড়ে যাই।
তোমার ভুবন মোহিনী হাসিতে যেন মেঘলা গগনে ভেসে উঠা নব পূর্ণিমার চাঁদ,
যত দেখি ততই প্রেমে পড়ে যাই।

………………………………………………………………………..

 

COSMETIC
       –Tuhin Sajjad Sk

Surprises in the universe are quite natural.
But surprising humanity has become incidental.
Today’s travesty is not accidental.
Cheating and beating are easily phenomenal.
Who says honesty is the best policy?
That guy rules who does in hypocrisy.
Simplicity is the best virtue that lies in philosophy.
Except for talent, anything wins over the trophy.
True education seems to be imaginary.
Only money tells the headline story.
Might is right, Right is wrong.
Righteousness sounds like ding-dong!
Under the scorching sun, talents wallow on the bare streets.
Fakes imitate purity on black sheets.
Flexible humanism turns into plasticity.
Though AI is ravishing, everything loses its originality.
Nowadays, who cares for the cosmos to be systematic?
The essence of Creation smells toxic!
Let there be lights all over the senses.
Shrug off the cosmetics to beautify societies.

………………………………………………………………………..

 

তোমার তুমিকে ছোঁয়া হয় নাই

✍️নির

আমি তোমাকে কোনোদিন ছুঁতে পারিনি
তোমার স্পর্শ অনুভবে পেয়েছি সুখ
প্রতিদিন স্বপ্নে নিভৃতে তোমাকে ছুঁয়েছি
শুধু তোমার তুমিকে ছোঁয়া হয় নাই।

শরতের সকালে কুড়িয়েছি শিউলি ফুল
প্রাণ ভরে নিয়েছি তার সুবাস
পেয়েছি তোমাকে ছোঁয়ার অনুভব আর
তোমাকে ছুঁতে পারার আশ্বাস।

তোমার নির্বাক মুখের ভাষা পড়েছি
হৃদয়ের তীব্র গভীর উল্লাসে
নাভীমূলে নীল পদ্ম আবাদ করেছি
মনের সুখে ছুঁয়েছি তার কোমল পাপড়ি,
কখন হৃদয় আমার হৃৎপিণ্ড ছুঁয়ে গেছে
উদাসীনতায় ভুলে গেছি সে কথা,

তোমাকে ছোঁয়া হয় নাই আজও
ফিরে এসেছে নগ্গ পায়ে একাকী বিষাদ
করুন ছায়ার মত ছায়া থেকে প্রতিচ্ছায়ায়,
শূন্য বালুকাবেলায় পা ভিজিয়েছি লবনাক্ত ঢেউয়ে
বারে বারে ফিরে গেছে ঢেউ
আবার এসেছে ফিরে, ভিজিয়ে দিয়েছে আমায় তবু
তোমার তুমিকে ছোঁয়া হয় নাই।।

…………………………………………………………………………….

 

পরমহংস দেব

 –মিলন কুমার ভৌমিক

পুঁথিগত বিদ্যায় মন নেই
জন্ম ভারতবর্ষে,
পৃথিবীর জগৎ পিতা
পরিচিতি সবার কাছে।
অসাধারণ স্মৃতি শক্তিতে ভরপুর,
দশ বছর বয়সে,
রামায়ণ, মহাভারত কাব্যপাঠ
শুনতে সবাই মুখে মুখে।
জীবনতত্ব ও মৌলিক চিন্তাধারায়,
মানবজাতি কে বাঁধলে একসূত্রে,
উত্তরণের পথ নির্দেশে।
ঈশ্বরাবতার রুপে অবতীর্ণ
মানবজাতির উপর বিকীরণ করে।
বিস্ময় জাগে মনে
আজ ও লাখো,লাখো, মানুষের ভিড়,
মন্দিরে মন্দিরে স্পর্শ পাওয়ার জন্য।
সৃষ্টি কর্তার অপরুপ দশ’নে
ঈশ্বর ভাবনা জাগলো,
বিশ্ববাসীর হৃদয়ে নতুন করে।

…………………………………………………………………..

 

অজানা ভয়
  –রূপা দত্ত চৌধুরী

প্রভাদেবী একা বসে আছেন একটি ভাঙা বাড়ির বারান্দায়।আকাশটা আজ ভীষণ রকম কালো চারিদিকে থমথম করছে। প্রভাদেবী মনে মনে বিপদের ঘন্টা শুনতে পাচ্ছেন,তার মনে এক অজানা ভয় কাজ করছে। তিনি ভাবছেন কোন ইঙ্গিত নয় তো,হঠাৎই বিকট আওয়াজ করে একটা বাজ পড়লো, প্রভাদেবী চমকে গিয়ে চিৎকার করে উঠলেন ও মা গো আমি এবার কেন মা আমাকে রক্ষা করো। আমাকে বাঁচাও তুমি এসো মা তুমি এসো। স্বামী অনেকদিন আগে মারা গেছেন একমাত্র ছেলে নরয়ে প্রবাসী।মাসে মাসে টাকা পাঠিয়ে আর মাঝে মাঝে ফোনে যোগাযোগ করে কর্তব্য শেষ করে। ছেলে ধারণা এই বাড়িতে ইনভেস্ট করা মূর্খমি তাই ভাঙা বাড়িতে জ্ঞাতিগোষ্ঠীও কেউ আসে না প্রভা একাই থাকেন আর মনে প্রবল ভয় নিয়ে বাস করে এই ভগ্ম প্রায় বাড়িতে।

……………………………………………………………………………….

 

অম্বার অভিশাপ
-চণ্ডীচরণ দাস   (অমিত্রাক্ষর ছন্দে)

হরি আনি বাহুবলে স্বয়ম্বর হতে
কাশীরাজ কন্যাগণে, বীর ভীষ্ম শেষে
করিলেন আয়োজন বিবাহের লাগি
বিচিত্রবীর্যের সনে। অকষ্মাৎ কহে
জ্যেষ্ঠাকন্যা অম্বা আসি ভীষ্মের সকাশে—
বাগদত্তা আমি, বরিতাম শাল্বরাজে
স্বয়ম্বর সভা মাঝে, এবে ধর্মমতে
করিতে নারি গো বিভা তব সহোদরে।
আয়োজন কর ত্বরা পাঠাইতে মোরে
হৃদয় কাণ্ডারী মম শাল্বরাজ পাশে।

হেরিয়া অম্বারে নিজ প্রাসাদ সম্মুখে
নাসিকা কুঞ্চণ করি শাল্বরাজ কহে—
পরপুরুষের স্পর্শে অন্যপূর্বা নারী,
করিতে গ্রহণ তোমা অপারগ আমি,
ফিরে যাও অম্বা তুমি হস্তিনা নগরে,
করহ বরণ তব হরণকারীরে।

ফিরিয়া আসিয়া ত্বরা হস্তিনা নগরে
উপস্থিত হয় অম্বা ভীষ্মের সম্মুখে,
অশ্রুভরা আঁখিদ্বয়, আকুল স্বরেতে
হৃদয়ের যত ব্যথা করে নিবেদন—
তোমার পরশে দেখ হারাইনু আজি
অধিকার শাল্বরাজে করিতে বরণ৷
নির্দেশ করহ এবে কর্তব্য আমার,
কি হবে আমার গতি অভাগী জীবনে?
করিয়া বিবাহ মোরে করহ সার্থক
নারীর জীবন মোর, না কর দ্বিমত।

শুনিয়া ভীষ্মের কথা—করিতে গ্রহণ
অপারগ, পাশবদ্ধ প্রতিজ্ঞার জালে—
আঁখি ভরে রোষাণলে, ওষ্ঠ কম্পমান,
তপিত নিঃশ্বাস বহে ধুম্রলাভা যথা,
দাঁড়াইয়া দর্পভরে ভীষ্মের সম্মুখে
ক্র্রোধভরে কহে অম্বা—তোমার কারণে
আজি মোর হইল যে এমত দুর্গতি,
মৃত্যু বিনা পথ নাই। হে কুরু দিগ্গজ,
আজি আপনারে দিনু শাপ—যেইভাবে
বিনা দোষে আনি দিলে অকাল রজনী
জীবন প্রভাতে মোর, সেইমত আমি
হইব গো জেনো তব ধ্বংসের কারণ
কুরুক্ষেত্র রণভূমে, রাখিও স্মরণ।

……………………………………………………………………………..

 

বাঙালিয়ানা
     — ডা: রোমী রায়

বাঙালিয়ানা মানে বাঙালিত্ব জুড়ে আছে আমাদের মনে-প্রাণে
আজকের অত্যাধুনিক জীবনযাত্রায় সুপ্ত থাকলেও বাঙালিয়ানা আমাদের টানে
বাঙালিত্ব কি হারিয়ে যেতে বসেছে যান্ত্রিক বিজ্ঞানবাণে?
মোটেই না! বাঙালিয়ানা লুকিয়ে আছে আনাচে কানাচে আমাদের মনে।

বাঙালিয়ানা হলো হাত মুখ ধুয়ে মার নরম শাড়ির আঁচলে মুছে নেওয়া
বাঙালিয়ানা হলো বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ‘মা আসি’ বলে যাওয়া
বাঙালিয়ানা হলো শুভ কাজে যাত্রার আগে মার মুখে ‘দুগ্গা দুগ্গা ‘ শুনতে পাওয়া
বাঙালির তেরোপার্বণের ষষ্ঠীর দিনে ঠাকুমা জেঠিমাদের সাথে লুচি আলুর দম খাওয়া ।

বাঙালিয়ানা উঁকি দেয় দুর্গাঅষ্টমীতে নতুন জামা পরে অঞ্জলি দিতে গিয়ে
বাঙালিয়ানা লুকোচুরি খেলে সরস্বতী পুজোর দিন কিশোর কিশোরীদের নিয়ে
গঙ্গার বুকে নৌকা সফরে গেলে যেমন মন ওঠে “ও নদীরে ” গেয়ে
তেমন ই গ্রামের মাঠের আলের পাশে কবি জীবনানন্দের পংক্তিগুলি আছে ছড়িয়ে ।

বাঙালিয়ানা মানে ছোট্ট চুলের আধুনিকা কনের সাজে সিঁদুর পরে লজ্জা পাওয়া
আবার শাল পিয়ালের জঙ্গলে নেশাগ্রস্ত করে বাঙালির মনমহুয়া
সবসময় জিনস পরা মেয়েটার রবীন্দ্র জয়ন্তীতে সুন্দরভাবে ‘এসো হে বৈশাখ ‘ গাওয়া
কন্ভেন্টে পরা ছাত্রদের নজরুলের কবিতা দৃঢ়তার সাথে বলে যাওয়া
প্রণম্য মাণিকদার বাঙালিয়ানার মাঝেই আমরা আছি ,এই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া ।

তাই বাঙালিয়ানা বাঙালিত্বের স্বাক্ষর
বাঙালির মন বেঁধে রেখেছে বাঙালিয়ানার পিঞ্জর
আমরা বাঙালী তাই বাঙালিয়ানা জুড়ে আছে আমাদের অন্তর
মা বাবার আশীর্বাদ ও বঙ্গভূমির ক্রোড় যেন লাভ করি জন্মজন্মান্তর।

……………………………………………………………………………………

 

OF SADNESS

 – Dr. Sujata Chatterjee

 How many tears are there in your bosom ? Oh grand ocean, submerged in your dreams I have but a few tears buried in my eyes That flow out like rivulets or streams.

Glistening like stars are those streams of tears Which speak of melancholic notes that sound Music of the mournful violin that rings out

Reverberates in the stony valleys profound

Grieving soul that breathes out a deep sigh Eyelashes heavy with the spilling tears

White lips and throat parched for sips of water Agonized heart full of coldness and fears

Tsunamis of sadness destroying the soul Where there is devastation and despair These are darkened spaces and houses Where the vultures and vampire bats dare

As sunlight does turn its face away

With the descending night comes the gloom Apocalyptic dusk full of storms and gales When human race is prepared for a doom.

In those sad wilderness of the universe Hope and care in my life do bloom

In my little bed of joy and woe

Within the subdued light of my room.

……………………………………………………………………………………..

 

প্রতীক্ষা

-দেবযানী

রোজ একটিবার করে আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাও।
অথচ তোমার সাথে আমার দেখা হয় না কখনো।
ডেকে জিগেস করোনা।
কেমন আছি।
আমার তো জিগেস করাই বারণ।
তাই আজ আর অপেক্ষা করি না।
তোমার যাওয়ার সময়টা আর অপেক্ষা করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকিনা।
যে আশার আলো জাগিয়ে তুমি অন্ধকারে রয়ে গেলে তার জন্য আমি অভিভূত।
তোমার ক্লান্ত মনের অবসন্নতা আমি রোজ দেখি মনের অগোচরে।
স্বস্থির মাথায় হাত বুলিয়ে দেবার সময়টা আর এলনা।
আমার ভালোর জন্যই তুমি আনতে দিলে না।
চেয়েছিলে ভাল থাকি।
চেয়েছিলে অদেখাটাই ভাল।
তাই হাজারো ব্যাস্ততা এনেছো এড়িয়ে চলার বাঁকে।
তোমার ব্যস্তাকে আমি শ্রদ্ধা করি।
তাই আর অপেক্ষা করি না।
শুধু প্রাপ্তিগুলো জাবর কাটি একলা থাকার ফাঁকে।
তোমার এই অভিনব টিপস এ
ভীষণ ভাল থাকি তাতে

……………………………………………………………………………..

 

ইছামতী

-টুম্পা দে

আজ দুপুরে বৃষ্টি এলো
আকাশ হলো ঘনো কালো,
নদীর জলে হালকা ঢেউ,
ধূসর আকাশ ধূসর জল
মিলেমিশে একাকার
ইছামতী র নদীর জল।
শান্ত স্নিগ্ধ হাওয়া
দোলা দেয় মনে,
মনে হয় ভেসে যাই
এই উজানে,
ইছামতী তুমি কতো সুন্দর
এ পার আমার বাংলা
ও পার তোমার,
নেই তো কোন অমিল,
এক ই আকাশ, একই বাতাস
এক ই তো নদীর জল,
তবু তুমি দু ভাগ হলে,
কতো স্মৃতি, এই নদীর জলে,
তবু আজও ও পার তোমার
এ পার আমার

……………………………………………………………………………..

 

সুখ পাখি

-সঙ্গীতা দাস

পাখনা আমার ছিল বটে

উঠতে উঠতে ভাবি

এদিক চাই ওদিক চাই

কোথায় আমার ঘাঁটি

বল তোকে নিয়ে মোর

পাখি পাখনা মেলে

সাথে এদিক চাও ওদিক যাও

কোথায় যাব বটে হারাইছি যে পথ আমি

কোথা যাই বটে

আমার সাথে কি আসিবে যাব তেপান্তরে।

 

………………………………………………………………………………….

 

তুমিই আমার ভালবাসা

-সোমা কোলে

তুমিতো আমার প্রথম প্রেম, তুমিই আমার ভালবাসা।
তুমি হয়ত সুপ্ত হয়ে আমার মনের কোণে ছিলে।তাইতো এত বছর পর আবার দেখা দিলে।
তোমাকে রেখেছি কত যত্ন করে, মনের খাতায়।
তুমিই তো প্রাণ জাগাও আমার মনের’ই সবুজ পাতায়।
তুমিই তো আমার মনে নেশা ধরাও, জাগাও প্রাণ।
তোমার নেশায় বুঁদ হয়ে গাহি আমি বর্ষার গান।
মন,মননের তুলি দিয়ে হৃদয়ের আল্পনা আঁকে।
কোথাও তুমিও থমকে ছিলে, আমার চলার পথের বাঁকে।
এ জীবন আজ আছে কাল ছবি,কবিতায় মনে রেখো না হয়, আমার নাম।
আমি এক অতি সাধারণ মেয়ে সে-অ-কবি, কবিতাতেই দিও না হয় তার দাম।
অক্ষরের নির্যাসকে আহরণ করে এসো আমার কবিতায়, পংক্তি হয়ে থেকো তুমি প্রতিটি ছন্দে ছন্দে।
শিউলি ফুলের সুবাস হয়ে ভরিয়ে দিও আমার প্রতিটি রন্ধে রন্ধে।
আজ, এতগুলো বছর ধরে করছি তোমার সাথে যাপন।
এখন বুঝি, তুমিই সঙ্গী আমার, তুমিই আমার আপন।
তুমি কাছে এসে, এ মনের বাঁধ ভাঙ্গাও, মনের’ই প্রতিবন্ধকতায়।
শব্দের চাষ করে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পোড়ো আমার কবিতায়।
আমাকে কেন অনাত্মীয় ভাবো তুমি কবিতা??
আমিতো তোমার আত্মজন, অনেক আকাশ পেরিয়ে যে আজ হয়েছি তোমার আপনজন।

………………………………………………………………………………

 

আগমনী ছড়া
-সৃজা ব্যানার্জি

আসছে পুজো উড়ছে মেঘ
, নামছে পরীর ঢল
মাতছে বিশ্ব ঢাইছে বাতাস
, দুলছে কাসের দল
শিউলি তলায় গান বেধেছে
, আগমনির ফুল
গাইছে খোকা নাচছে খুকু
খাচ্ছে গিরির মাথা খানা
বলছে উমায় আর পাঠাবো না
শিব তো ঘরের ভাবনা ভাবে না

…………………………………………………………………………………

বর্ষণ

-জয়শ্রী বসু

মেঘ , কেন আকাশের স্বপ্ন ভেঙে দাও তুমি?
অশনি তীব্রতায় নীল মন অকাল প্লাবন,
তার অশ্রু দেখেছো কি তুমি?

পূর্ণিমা জ্যোৎস্নায় ভেসে যায় নক্ষত্রের রাত,
কত প্রেম ছায়াছবি,বিরহ গাথা,
কিছু সুখ ,কিছু অন্তর গভীর।

নীলকন্ঠ পাখির পাখায় ঝরে যায় রোদ,
বিষন্ন আকাশ,
অকাল প্লাবন ,
নির্বাক স্বপ্ন মিছিল।

ফিরে যায় প্রবাস পাখিরা,
সুমেরু প্রান্ত শহরে।
মেঘ ভেসে যায় অজানার দেশে,
মনে রাখে?
এই দ্বীপ এই বনচ্ছায়া,
বনফুলে পুষ্পিত সুবাসিত লতা ,
দিয়েছিল ছায়া,
মেঘ মনে আছে?
সন্ধ্যা গোধূলি মায়া,
একান্ত আকাশ আগ্রহী,
আদরে সোহাগে
কদম কেশর বৃন্তে ,
বকুলের ঝরে যাওয়া,
তোমার বুকের বর্ষণ সুখে।

আকাশ ,কি আর চেয়েছিল?
এক মুঠো শরতের সোনালী রোদ ,
আর কিছু নয়।
মেঘ মনে আছে?

………………………………………………………………………………….

 

‘অন্ধ গলির কোণ’

-শমীক

বেশ কিছুদিন কেটে গেল…
বেশ কিছুদিন আবার হুড়মুড় করে চলে আসবে।
গলির আঁধারে তোমার বাড়ি।
বহুকাল আগে একবার এসেছিলাম।
ঢুকে পড়েছি আজ সাহস করে।
তোমাদের সেই ডাকাবুকো কুকুরটা
আজ বোধহয় আর নেই।
সিঁড়ির বাঁদিকে কল থেকে
আর টপটপ করে জল পড়তে দেখলাম না।
চারদিক এতো নিস্তব্ধ কেন?
আমার হাত আছে, পা আছে, স্নায়ু সতেজ।
তবে কি আমি অস্তিত্ব বিহীন?
ঢুকে পড়লাম তোমার ঘরে।
তোমাকে একটা বই পড়তে দিয়েছিলাম…
‘রবীন্দ্রনাথ’।
শোকেসে সেটাও চোখে পড়লো।
তোমাদের জরাজীর্ণ সোফায় চুপচাপ বসে আছি।
পড়ন্ত বেলায় শীতের আলোয় একটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল।
আমি নিরন্তর অপেক্ষায় বসে আছি….
‘ তোমার অপেক্ষায়’ ।।

……………………………………………………………………………………

আমার ছেলেবেলা
      -ইন্দ্রানী শাসমল (সাহা)

ছেলেবেলার দিনগুলি ছিল
কেমন সাদাসিধা
ছিলনা কোন জটিল প্রশ্ন
ছিলনা কোন ধাঁধা।
মনে পড়ে বাবার কোলে চড়ে
স্কুলে যাবার দিন
স্কুল ছুটির পরে চাটনিতে
সিঙ্গারা চুবিয়ে দিনটা হয়ে যেত রঙিন।
ছোটবেলায় মামার বাড়ি ছিল
সবচেয়ে প্রিয় স্থান
দিনগুলো কাটতো ভালো
খেলাধুলা খাওয়া-দাওয়া আর নাচগান।
পড়াশুনা তখন ও ছিল
কিন্তু ছিল না এত চিন্তা
একটুখানি পড়ে নিলেই
কাটতো ভালো দিনটা।
মনে পড়ে দুপুরবেলায়
গাছ থেকে পাড়া আম
মনে পড়ে মামার বাড়ি গাছের
মিষ্টি মিষ্টি জাম।
তিন ভাইবোন মিলে দিদার বানানো কাসুন্দি দিয়ে মাখা হতো সেই আম আর জাম।
তার সাথে আরো ছিল
মিষ্টি টোপা কুল
সেই সব গাছের নিচে কেটে যেত
আমাদের ভাই বোনেদের সারা দুপুর।
তার সাথে আরও ছিল
দিদার হাতের বানানো নানা রকম সুস্বাদু সব আচার।
আমরা ভাইবোনেরা সুযোগ পেলেই করে দিতাম সাবার।
১২ মাসে ১৩ পার্বণ নানান অনুষ্ঠান
এইসবের কোন কিছুই দিদা দিতো না বাদ।
জন্মাষ্টমী রথযাত্রা গুরুদেবের জন্ম উৎসব দোলযাত্রা সবকিছুই হতো মহা ধুমধাম।
খিচুড়ি ভোগের সাথে নানা রকম সুস্বাদু খাবার আরও পেতো স্থান।
এমনই কত সুখ স্মৃতি
মোদের ছেলেবেলা
কিছু ভালো কিছু মন্দ
কত সুখ ও স্মৃতির মেলা।

…………………………………………………………………………………….

বিবাহবার্ষিকী

-ইন্দ্রানী সরকার

মধুচন্দ্রীমা ভরা দিনরাত
আসে কেবল বছরে একটিবার,
কতশত আসা বিগলিত
এই একটি দিন-
কারো কাছে পূর্নিমার চাদ,
কারো কাছে ফেলে আসা
গোটা বছরের বালিশ চাপা,
ভেজা চোখের কালো মেঘে
ঢাকা তারা।
এই বিবাহবার্ষিকী প্রতিবারই
স্মরন করে দেয়-
নতুন জীবনে পদার্পনের
বিষ্মাস , ভরসা, ভালোবাসা, আর বন্ধুত্বের, ভগবানের আর্শীবাদপ্রাপ্ত
শুভ দিনটির কথা,
কোকিলের ডাকে ঘুম ভাঙে সকালে,
মনে আসা সেও কি শুনতে পাচ্ছে
এ ডাক-
চোখ দুটি যেদিকেই চায়
ফুলে ফলে ভরা থাকে চারিদিক,
আর কিছু আসুক আর না আসুক
প্রেমখানি এসেছে মনে।
অবুঝ মন যে মানে না মানা
পারে না থাকতে বন্দী-
কথাই শোনে না বেয়াদপ মন
উড়তে চায় যতদূর তার চায় মন॥

…………………………………………………………………………………..

ভিখারী উৎসব

   -পাপিয়া মিত্র

দলে দলে চলেছে যাত্রীদল, পদানত,
হাতে থালাবাটি সাথে উৎসবের দিকে
মেতেছে সবাই আজ উৎসব ভাই
পাওনার অঙ্ক জানা নেই ওদের
ছেঁড়া সম্বল যতটুকু অঙ্গের
তাড়াতাড়ি যেতে হবে পায়ে পা ফেলে।
ভিখারী উৎসব আজ, লাঠি কাঁধে ফেলে কাজ
লাইনে দাঁড়ায়, কী হবে, কী পাবে এই ভাবনায়
ছিঁটে ফোঁটা ফুটপাত, হয়তো বা দিনরাত
আছে শুধু উৎপাত, কঠোর শ্রমের ভার
এই চলে গেল বলে শরীর কাঁপায়।
ভিখারী ভিখ পাবে
চাল আলু রুটি কত
মনে মনে আশা যত
সবুজেরা কোথা যেন হারিয়ে যায়।
কার কোল কীভাবে যে
পূরণ করবে নিজে
অনিশ্চিত ভাবনায় দিন পার হয়
অপেক্ষার লাইন বেঁকে বেঁকে যায়
শত শত ভিখারী আজ মিলেছে সেথায়।

……………………………………………………………………………………..

 

তরলিত মৃত্যু—– উধাও ভূতল

– সুপ্রতীম ভৌমিক

ধরাতলে জলতল ,কুঞ্চিত ভ্রূযুগল ,ভীষণ ও ভয়ানক চিন্তায় রই,
দিনমানে,যামিনীতে, ধীরলয়ে ধাবমান ,আগ্রাসী দ্রবতায় বিস্তার পায়।
আড়ালেতে ধ্বংস, কুটিল ঐ বহতা,আর্তিময় বাঁচান, হৃদয়েতে ঠাঁই,
পলকেতে লুপ্ত, সাবলীল থৈথৈ, উপড়িয়ে ভাসিয়ে, ঐ চলে যায়।
, অতলস্পর্শী, তরলিত মৃত্যু, নম্র অভিঘাতে, হননে মায়ায়,
প্রখরতা মৃদুতা, স্থির নিশ্চয়তা, উধাও ভূতল, সলিল ছায়।
প্রফুল্ল -সুরম্য, শহুরে বা গ্রাম্য, গভীর তলানি ,অম্বু ছলনায়,
টলমলে অনুরনে ,গর্জনে গুঞ্জনে ,অপার তারল্যে, কেমন ভাষায়।
কুহেলিকা প্রহেলিকা ,মাধুরী ও চাতুরী ,গতিময় বলিষ্ঠ; জীবন হারায় ,
ঋজুতার হতাশায়, ব্যপ্তির বিনাশে ,স্রোতের ঐ কোপেতে নিপাত করায়।
নিঃসঙ্গ অনিকেত, উচ্ছেদ বেদনায় ,জলরাশি ঐ,কেমন ভরায়,
সমৃদ্ধি -সভ্যতা, অনাবিল বহতা ,নিমেষে অতীত, বারি চারণায়।
বিহবল বাস্তব ,জড় বুদ্ধি নির্বোধ ,বাস্তুহারার দল, শূন্যে তাকায়,
দমিত কান্না ,অস্ফুট ক্রোধ, অভাবের অবসতা ,কুরে কুরে খায়।
স্তব্ধ নিঃসঙ্গ, সংশয় ক্লিষ্ট, ত্রাসিত তাড়না, গভীর শোচনায়,
গলিত ক্ষয় ,প্রতিদিন ক্ষণিকতা, নিম্নতর মাত্রায়, কী মরণময়!
বৈভব ও দারিদ্র্য, প্রবাহিত বিষন্নে,অম্লানে মিলিত, শিকড় হারায়,
চেতনা তছনছ ,চিন্তায় তোলপাড় ,মৃত্যু ও বিচ্ছেদ, জল যন্ত্রণায়।
দিগন্তে জলতল ,নরকের বুনন, সর্পিল হিমায়িত, মরণ আবছায়,
জীবন ও মৃত্যুর ,সূক্ষ্ম সীমায়, অব্যর্থ আয়ুধ ,জল ছলকায়।

…………………………………………………………………………………..

আমি
    -আমির হোসেন চৌধুরী (কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ)

আমি কভু নয়কো আলসে
কোন কাজ করবো না ধীরে ধীরে,
না করবো অযথা সময় ব্যয়
শুয়ে, বসে, ঘুমে ঘুমে।

নয়কো আমি রংবাজ রাস্তার
অপরের ক্ষতি সাধন করবো বারবার,
সবাই করবে তিরস্কার
যা সহ্য হবে না আমার।

আমি নয় ঠকবাজ কভু
ঠকিয়ে ঠকিয়ে উদ্ধার করিনা স্বার্থ,
তাতে তোমার না লাগলে ভালো
অচিন দেশে যেতে পারো।

নেইকো আমার নারী লালসা
ভুলেও কখনো করোনা দায়ী,
যদি পারো একটু শোনো
ধর্মগুরুর কথা একটু মানো।

হতে চাই আমি দক্ষিণা বাতাস
খোলা প্রান্তরের ধুধু প্রান্তর,
হবোনা কখনো মরীচিকা
নীতিবান হয়ে রবো সারাটি জীবন।

এইতো মোদের স্বাধীন জীবন
ভুলেও কি আবার হবে আগমন!
এখন সময় পরের কারণ
ভালোবেসে সবাই মোরা হবো আপন।

……………………………………………………………………………………..

FORTUNE
-Amir Hossain Chowdhury (KumarKhali, Bangladesh)

Fortune, Fortune, Fortune and Fortune
Every things are depend on Fortune
Fortune creats new new Futures,
We are all tided webs of Hope
Some are succeded, some failed.

But everybody likes to see Dream
For his good Future,
Then he takes all types step—-
As he always achieve better and better
So he involved prayer, good work and things
So, So and So much involved.

Sometimes unexpected Needs and Hopes
Rolling besides everytimes,
Then It comes to closely by Unknown
We see happy and happy everythings
Everythings seem to be heaven.

Oh God, Oh my misfortune! listen to me
If fortune were favourable for me!
I will be happy one all of us
I could creat good and good for creatures
life and mind would be full of happiness,
Peace and comfortable
And then world seems to be
Gentle, ordinary, smart and soft everly.

………………………………………………………………………..

 

জীবন যে‌ রকম

-সুমাল্য মৈত্র

জীবন দু মুঠো ভাতের‌ অপেক্ষায়
সবাই চলেছে যে‌ যার‌ মতো
ছড়িয়ে ছিটিয়ে
দ্রুতগামী পায়ে হেঁটে যায়‌
সকাল বিকাল ‌।
ঈশ্বর শুধু বসে আছেন ধ্যানে‌
বিপ্লব এখন আর
সেভাবে‌ আসে না পৃথিবীতে
মানুষের নানান না বলা কথাগুলো আজ
অকারণেই ভেসে ভেসে ওঠে‌।

………………………………………………………………………..

 

হেমন্তের বিরাজ

-ঝর্ণা শাসমল

পুজোর শেষে শরৎ গেল
হেমন্তিকা এলেন
কিছু ঠান্ডা কিছু গরম
আবহাওয়া দপ্তর বলেন।
এবার তবে হেমন্ত এলো
ঠান্ডা-গরম নিয়ে
শিশির ভেজা ঘামগুলি সব
রূপালী চাদর দিয়ে।
ভোরের আলোয় শিশির বিন্দু
ঘাসের উপর থাকে
রৌদ্রের আলো পড়লে পরে
রূপালী রং লাগে।
হেমন্তে যে পাকা ধানের
সোনালী রং মাঠে
ধানের বোঝা আসবে বাড়ি
চাষিরা আনন্দে মাতে।।

………………………………………………………………………..

 

আমার বাংলাদেশ
  – ডঃ সমীর শীল

নদী মাতৃক দেশ।খাল বিল নদী ঝিল অশেষ।
সেই তো আমার ভালোবাসা। আমার বাংলাদেশ।।
আছে পাহাড়, আছে নদী। আছে ঝর্না, সাগর তট।
পাহাড়ে মেঘ, নদীর জল, ঝর্না উছল দৃশ্য পট।।
আম কাঁঠালের ছায়ায় ঘেরা। সবুজ বন বিতান।
নজরুলের অগ্নিবীণা।আর রবির গীত বিতান ।
যত ই দেখি, যত ই দেখি।দেখার নেই তো শেষ।
সেই তো আমার ভালোবাসা। আমার বাংলাদেশ।।
সকালবেলা গোল্লাছুট।আর বুড়ি ছোঁয়ার খেলা।
সেই তো আমার শৈশব। আমার জীবন বেলা।।
ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। ছোট্ট বেলার শৈশবে।
মা আর মাটি একাকার। সে অমলিন অবয়বে।।
এপারে গঙ্গা।আর ওপারে পদ্মা, মেঘনা, কর্নফুলি।
মাটি ও মা, নদী ও মা। মা, তোমায় কিভাবে ভুলি।।
লাঙল দিচ্ছে চাষা। মুখে বাংলা মায়ের ভাষা।
পাল তুলে নায়ে। গাইছে মাঝি, ভাটিয়ালি খাসা।।
ছিনিয়ে নিয়েছি মুখের ভাষা। তবু কেন মা মলিন বেশ।
সেই তো আমার ভালোবাসা। সে আমার বাংলাদেশ।।
বাংলা আমার হৃদস্পন্দন। বাংলা বুকের পাঁজর।
দামাল স্রোতে, নদীর পথে।আসুক দেশে নতুন ভোর।।
ভাষার তরে মুক্তিসেনা। গুলিতে দেয় চিতিয়ে বুক।
বাংলা আমার ভালোবাসা।হোক বাংলা জাগরুক।।
আদিগন্ত জোড়া মাঠ। সে মাঠভরা সবুজ ধান।
এপারে ভাষার উনিশে। আর ওপারে একুশের গান।।
আমার বাংলা, রূপসী বাংলা। আমি দেখি বাংলার মুখ।
বাংলা ভাষার, বাঙালিয়ানার।
ষোলো আনা ই সুখ।।
সবুজ ঘেরা ছবির মতো।লাল সূর্যের রূপক বেশ।
সেই তো আমার ভালোবাসা। সে আমার বাংলাদেশ।।

………………………………………………………………………………

 

মৃত্যুর পর ফিরে আসা

–  সরবাণী সিংহ রায়

ওপারে একা থাকতে পারেনি ওরা
ফিরে এসেছে শান্তির গল্প নীড়ে।
ফেরার জন্য মন আনচান করে,
তাই চায় থাকতে সবাইকে ঘিরে।

থাকতে চায় সবার ভালোবাসার পরশে,
নুতন করে আবার বাঁচতে চায়
শরতের নীলাকাশের ঢেউয়ের পরে
সেই রোদে আরাম কেদারায়।

আবার ফিরতে চায় এই ধরায়,
রূপ গন্ধে ভরা এই শরতে,
ঝরে পড়া শিউলি, জোছনা রাত
মেঘ থাকে পরতে পরতে।

শীতের রোদ্দুর ওম মাখা ভোর
সব মিলে মিশে একসাথে,
শীতের রাতে পিঠে পুলির আমেজ
মন ভরে ওঠে স্বাদে।

আবার আসতে চায় এই ধরায়
নীল সমুদ্রের লোভে
ছায়া ভরা নদীর তটে বসে
নুতন কিছু আঁকার শোভে।

আর পরিবারের সবার সাথে
হাতে হাত রেখে ছুঁয়ে,
মনের আনন্দ ফুর্তি উজার করে
থাকবে ওপরের সব ধুয়ে।

………………………………………………………………………..

আমি আসছি

  -পাপড়ি দত্ত

সময়টা কখন যেন অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে
এই তো সেদিন কাঁচের জানালায় দাঁড়িয়ে
দুই বেনী বেঁধে মাকে চিৎকার করে বলতাম
আমি আসছি গো মা আমি আসছি।
আর আজ সিঁথির দুপাশে কাঁচাপাকা চুল উঁকি দিচ্ছে,
বলছে সময় তো শেষের পথে এগিয়ে চলছে।
এতটা সময় তুমিও হেঁটেছো, আমিও হেঁটেছি।
এই তো সেদিন বিকেল বেলায় তুমি আমি
দেখা করলাম বকুল গাছের তলায়।
তোমার দেওয়া বকুল ফুলের গন্ধ আজও পাই,
কি করে এতটা পথ পেরিয়ে এলাম?
এই তো সেদিন নতুন বৌ হয়ে তোমার ঘরে এলাম
তুমি বরন করলে নিজের মতো করে।
আচ্ছা, আজ তুমি কোথায় গিয়েছো বলো তো?
আমি দোতলার ঘরে তোমাকে
ডাকতে গিয়ে দেখলাম তুমি নেই।
তোমার দেওয়া লাল শাড়িটা পড়ে সিঁথি রাঙিয়ে
সেই বকুল গাছের তলায় দাঁড়িয়ে
আছি তোমার অপেক্ষায়।
হঠাৎ দেখি কত লোকের মাঝে তুমি
নিশ্চিতে শুয়ে মহামিছিলের মাঝে যাচ্ছো–
আর হাত নেড়ে বলছো
আমি আসছি গো আমি আসছি।

………………………………………………………………………..

 

রঙ মশাল
  -ঝুমা মল্লিক

প্রতিটা ভালোবাসার রঙ আছে,রঙের মধ্যে ভিন্ন রকমের পথ,পথে আকীর্ণ যাত্রাপথ ।
প্রতিটি ভালোবাসার একটা শরীর আছে, শরীরের মধ্যে চোখ ,চেতনা ।
প্রতিটি ভালোবাসার একটা অনুভূতি থাকে আর সেই অনুভূতির ভিতরে পোড়ামাটির উত্তাপ।
ভালোবাসা জলের মতো ,মধ্যিখানে হাজারো ঢেউ আর ঢেউয়ের মধ্যে হাজারো প্রতিরোধ।
হাজার প্রশ্ন ,
তবু দেখো,সকালবেলা রোদে আলোকিত পথ,প্রশ্নেরা উবু হয়ে উপভোগ করে যাত্রাপথ।
আর সন্ধ্যে হলে,তুমি তারা হয়ে জ্বলবে,জরিমানার গল্প শুধাবে।
রাতের পৃথিবীতে একলা হবে?ফিরে যাবে অজানা কোন দেশে ,নিরুদ্দেশে,কল্পনায়।
অস্থির সময়।
অস্থিরতা তোমার বুকে।
আমার বুকে জমেছে জল । জলের মধ্যে হাজারো তারা ডুবে যায়।

…………………………………………………………………………

রাত
-শেফালী দেবনাথ

লাল আবির গোধূলির রং স্বপ্নের বাতাস ছুঁয়ে।
একরাশ অভিমানী দোয়েলের গান ভেসে এসেছিল মাদলের সুরে।

শূন্যতা মেঘ ছাড়িয়ে অচেনা এক পাহাড়ি নীল বেশে।

হৃদয় উপড়ে শিহরণ ঘন রাত উল্লসিত রাঙা চোখ।
বিস্ফোরণ ছুঁয়ে ভূখণ্ডে বারুদের গন্ধ উত্তাল।

উপন্যাসের পাতায় পরিশ্রমী হাতের ছোঁয়ায় অনুভবের মহাপৃথিবী,
শূন্যতার মিথ্যে ঘ্রাণ নদী পেরিয়ে,
জড়োসড়ো হয়ে যায় মেঘলা রোদ।

……………………………………………………………………………….

শঙ্খধ্বনি আর আজানের সুর

-শর্মিলা মাজী

কবিদের কথা আর কবিতায়, শঙ্খধ্বনি-আজানের সুর এক হয়ে যায়,শরীরের ব্যথাগুলো আষাঢ়বৃষ্টি হয়ে ঝরে,
এত যে সবুজ মাঠ ছিল, ছিল যে এত ঘাস মনের ঘরে! ছিল নরম অন্ধকার আর অন্ধকারে সইয়ে নেওয়া চোখ,
হ্যারীকেনের আলোয় দেওয়ালে ফুটে ওঠা অসংখ্য ছবির কোলাজ, মনের সরোবরে একশো আটটা পদ্ম ফোটায় গর্ভধারিণীর পায়ে অঞ্জলী দেবে বলে!
জীবন বড় অদ্ভুদ নির্মম! জীবন্ত প্রতিমা যখন চোখের সামনে ছিল, কত কবিতা তৈরী হতে পারতো তাঁকে ঘিরে!
এত সহ্যের প্রতিমূর্তি, কোনো অভাবই তাঁকে টলাতে পারেনি, সব অপ্রাপ্তি কে হাসিমুখে মেনে সংসারজীর্ণ চাবিকাঠি আঁচলে বেঁধে প্রচলিত সুখকে ব্যঙ্গ করে গেছে অতি সাধারন যাপনে।
দীর্ঘদিন ধরে একটা মানুষের শরীর কেমন করে শিকড় ছড়িয়ে ঘরের ভিতর নিশ্চল থাকতে পারে একটি সুপ্রাচীন বৃক্ষের মতো, একটি নিষ্করুণ কবিতার মতো!
পুরোনো সব মিথ ভেঙে ফেলে, ভেঙে ফেলে সফল সব কবিতার অবয়ব, সে চলে গেল শুধু ঝড়বৃষ্টি সম্বল করে।

……………………………………………………………………………….

নদীগুলো
   -সীমা ঘোষ

সব নদীর ই বুকের ভেতর
আরো দুটো নদী থাকে।
একটা নদী, অথৈ নদী
জল ভরে হয় বন্যা যদি,
তবুও নদী দুকুল ভেঙে
আকুল হয়ে চলতে থাকে।
দুষ্টু সে এক নদী আছে
জল ছিটিয়ে অট্ট হাসে,
শহর গঞ্জ ভাসিয়ে নিয়ে
ছুটতে থাকে, সাগর ডাকে।
আরেকটি সে লক্ষী ভারী
কারও সাথে নেই তো আড়ি,
আস্তে ধীরে গল্প করে
গ্রাম শহরের পাশেই থাকে।
বাঁধ দিয়ে যেই বাঁধবে তাকে
গর্জে উঠে বিষম রাগে
গ্রাম জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে
উঠবে ফুলে বিষম রাগে।
আদর করো, লক্ষী মেয়ে
নৌকো তুমি যাও না বেয়ে
ফুলে ফলে ভরিয়ে দেবে
গর্ব হবে নিয়ে তাকে।
আপন মনে যায় বয়ে যায়
শান্ত হয়ে দুহাত বাড়ায়
কেই বা তাকে শিকল পড়ায়
কোন বাঁধনে বাঁধবে তাকে!

……………………………………………………………………………..

বর্ণপরিচয় 

-নবনীতা রায়

তুমি জ্ঞান তুমি আলো,
তুমি চিরপ্রকাশময় দ্যুতি |
বিদ্যাসাগর তুমি মোদের,
চিরগৌরবময় জ্যোতি ||
অজ্ঞতার কালিমা দূর করে,
তুমি জ্বালিয়েছিলে জ্ঞানের আলো |
ভেবেছিলে বাঙালির চেতনায়,
ঘুচবে সকল কালো ||
ধর্মের বিভেদ ভেঙে,
অস্পৃশ্যকে দিয়েছো সংস্কৃত শিক্ষা |
বাঙালিকে দিয়েছিলে তুমি,
মানবিকতার দীক্ষা ||
কুসংস্কারের বেড়াজাল ভেঙে—-
জাতির উত্তরণে,
বর্ণপরিচয় করেছো সৃষ্টি,
তুমি অতি সযতনে ||
নারী আদি, নারী অন্ত
নারী সৃষ্টি সম্ভাবা,
বুঝিয়েছিলে তুমি সমাজকে
নারী রত্নগর্ভা ||
নারীর শিক্ষা, নারীর সম্মানকে
দিয়েছো স্থান অগ্রে |
তাই বাঙালির মনের সিংহাসনে,
তুমি বিরাজ সর্বাগ্রে ||
আজ আমরা —
নামেই হয়েছি শিক্ষিত,
সঠিক শিক্ষা ব্যাতিত
চেতনা রয়েছে নিদ্রিত |
দিকে দিকে তাই বাড়ছে হিংসা,
বিদ্বেষ, হানাহানি —
অর্থলোভের নেশায় মানুষ
বিক্রি হচ্ছে জানি |
সত্য মিথ্যার কানামাছি
আর কতদিন চলবে ?
দুর্নীতির প্রাচীর ভেঙে,
কবে ন্যায়নীতি কথা বলবে ?
ফিরে এসো তুমি বিদ্যাসাগর,
হাতে লয়ে বর্ণপরিচয়
দুর্নীতি মুক্ত সমাজ হোক —–
হোক মানবতার জয় ||

………………………………………………………………………………

কাজল নয়না..
    – শঙ্খ শুভ্র চট্টোপাধ্যায় সুনিত

ওগো কাজল নয়না, নয়ন তারা |
তোমার প্রেমের সুধা ঢ়ালো মোর অন্তরে |
ওগো আমার প্রিয়তমা
আমার চলার পথে খুঁজি তোমায় বারে বারে |
দেশ হতে দেশান্তরে,
সকল ক্ষণে |
তোমার ওই নয়নের দৃষ্টি
কেড়েছে আমার দু নয়নের,
নিদ্রা ও ক্ষুধা তৃষ্ণাকে |
ওগো কাজল নয়না,
আমি হারিয়ে যেতে চাই
তোমার ওই দু নয়নের
ওই নীল সাগরের অতলে তলে |
হারিয়ে যেতে চাই তোমার ঐ চোখের ভাষায় |
পেতে চায় সর্বক্ষণ তোমার প্রেমের উষ্ণতাকে ,
জন্ম জন্মান্তরে ধরে আপন করে আলিঙ্গন বদ্ধভাবে |
অমর হবে ভালোবাসা |
উপন্যাসের পাতায় হবে নতুন লেখা শকুন্তলা দুষ্মন্তের অতৃপ্ত প্রেম কাহিনী
অমর প্রেম হবে শিরোনামে
কোবির কলমে নতুন চরিত্রে |

……………………………………………………………………………….

অমর রেখা
 – হিমেন্দু দাস

দাগের দড়ি ফেললে কড়ি ছকের ছাঁচে ছোটে,
কলমদানির আকাশবাণী মসির দখল লোটে।
চিকন খাতায় হিজিবিজি মুণ্ডু মাথা বিনা,
অসারগামীর নামিদামি সারের গাদা কিনা।
সাবেক গাদা বেজায় মাধা গুণ কমালো ঘুণে,
গিরির আগুন ছাইয়ের সাগুন মসির ফাগুন দুনে।
লাভার তেজে যায় না হেজে সেজেগুজে দাগী,
লম্বা ছুতো আঙুল খুঁতো কলমচাষি ভাগী।
ঠিকার ঠেকে টিকার রেকে লাইন নাড়ে নোলা,
কাব্যাকাশে ভাবের শ্বাসে গলায় দড়ি ঝোলা।
গভীর দাগে অনুরাগে উল্কি বাগে আঁকি—
জ্বলছে তাতে গিরির আগুন, কাল দেবে না ফাঁকি।
আজকে না হয় হজম করি পেছন সারির যতন,
হরফ হানা আগুন পানা ভাগচাষির হোক পতন।
সত্য মিলাক সুন্দরী দাগ সাদা খাতার জ্যোতি,
‘সাপের হাঁচি বেদেয় চেনে’ মেনে পরম গতি।
জ্বলুক জ্বালুক গিরির আগুন সাগুন সাজে চুপে—
মিছিলহাঁকা অক্ষরীরা সাজুক দ্বীপে ধূপে।
দাগের দড়ি দেখাক কড়ি জারিজুরির জাঁকে,
কলম আমার কালের ভালে অমর রেখা আঁকে।

……………………………………………………………………………

বেজায় সুখ

  —মানব মুখোপাধ্যায়  (ছদ্মনাম- কৃপাণ)

বেকার ছিলাম; কদর ছিল! স্বপ্ন ছিল মনে,
পেরিয়েছি বায়ুস্তর, চিনেছে গুণীজন।
চাকরি করি, পাড়ার পুজোয় দিলে উঁচু পদ,
সবাই মিলে জড়িয়ে ধরে ‘এক ছিপি মদ’।
দেশের মেলা, দশের মেলা, শুধুই ঘোরাঘুরি..
ছুটিতে এবার ‘গোয়া যাব’ কতই জোরাজুরি।
পারিনি দিতে কিছুই আমি; মা বলতো, ‘হবে’
বুঝেছি এখন সবই আছে ‘মা’ তো গেছে কবে!
ইংরেজিতে কলিগ বলি, বাংলায় সহকর্মী,
তঞ্চকতার দাঁত বেরিয়ে মিথ্যা ‘মানব ধর্মী’
লঞ্চে উঠে “নৌকো বিহার” বলতে আমি ব্যস্ত-
মাঝি এখন যন্ত্র , দাঁড় হয়- পরাস্ত
নাটক শুধু নাটক; অভিযোগ-অভিমান,
খুবই কঠিন টিকিয়ে রাখা ‘নামমাত্র সম্মান’।
দুরন্ত ওই ঘোড়া পড়ন্ত বেলায় ফেরে,
মনের মানুষটাকে ‘কারা’! নিয়েছে কখন কেড়ে।
অর্থ দিয়ে নাকি! সব কেনা যায়, দাওনা পোড়ানো স্বপ্ন-
অসাধারণ হতে চাই না, তবু এত যত্ন!
কিসের নেশায়! সুখের বাসায়, খাঁচায় আমি বন্দি..
হারছি আমি নিজে থেকেই, এঁটো না আর ফন্দি।

………………………………………………………………………….

প্রকৃত মানুষ
   -অভিজিৎ দত্ত

মানুষ পৃথিবীর সেরা প্রাণী
একথা তো আমরা সবাই জানি
কিন্ত মানুষের মধ্যেই কেন
এত অশান্তি,বিভেদ, দূর্নীতি?
কে এরজন্য দায়ী?

মানুষ হয়ে জন্ম নিলেই
হয় না কেউ প্রকৃত মানুষ
তারজন্য দরকার চেষ্টা,অধ্যবসায়
লেখাপড়ার চর্চা আর বিনয়।

ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখ
দেশ-দুনিয়ার যত ভালো কাজ
করেছে যেমন মানুষ
ক্ষতিও করেছে ততো।

জীবন তো আমরা
একবারই পাই
তবে বৃথা কেন করছো
এর অপচয়?

প্রকৃত মানুষ হতে
নিজেকে তৈরী করো
দেশ ও দশের কাজে
নিজেকে নিয়োজিত করে
উদাহরণ তৈরী করো।

……………………………………………………………………….

 

ALONE ON THE ROAD
-CHANCHAL PRAMANIK

I did not go many times
How many times have
I thought
Behind the pull of following.
with family members Infatuation with close association
I could not leave alone with decision.
Faced with contemporary situations must go on alone
The illusory world must be left behind
Yours will not be with you.
When the faint moon rises in dim light
On the lonely road…
Apanjan says those
who will stay
I will be treated with respect.
They will tell –
Final greetings.
You have to pass alone
At the address of the infinite path…
I will look back and see the tears of loved ones Silent,
quiet and still scene!
I will just say on the way
I will come back to this catch.

………………………………………………………………………

আমি এখন ভিন্ন
    -পাপড়ি দত্ত

মেঘের কান্নার সাথে হেঁশেলের বাতাস এলো
জানালা বন্ধ, দরজা বন্ধ, তবুও-
বৃষ্টি এসে উথাল পাতাল অস্তিত্বে
একাকী মন ফিরে এলো।
অজস্র বসন্ত ব্যথা লিখে দোষ জুড়ে
পুরোনো দরজায় ফাঁকফোকর নিশ্চুপ।
কেমন যেন আড়ষ্টতায় পরিবৃত হয়ে
ক্রমাগত বাউলের শরীরে মেশে।
নকশিকাঁথার মাঠে অকুন্ঠতায় জানানো
হয়নি ভালোবাসার একদিন।
আমি লাবণ্যের সুখ দেখেছি ধ্বংস দেখেছি
অবলা শিশুদের যন্ত্রনা দেখেছি,
জীবনের এগিয়ে যাওয়ার আশায়
পুরোনো চিঠিগুলোর শব্দ আজ আঁকাবাঁকা।
স্রোতে বহমান হয়ে থাকা তুমি
সময়ের শরীরের আমি তখন ভিন্ন
আমি এখনও ভিন্ন।

………………………………………………………………………..

স্বাধীনতা
-স্বপ্না রায়

স্বাধীনতা তুমি বীর আত্মার রক্তে লেখা উপাখ্যান।
স্বাধীনতা তুমি সাহসী মায়ের বীর সন্তানের আত্ম বলিদান।
স্বাধীনতার কড়িয়েছে স্বাদ গ্রহণ
বিনিময়ে হাজার প্রাণ বিসর্জন।
ভেঙেছে পরাধীনতার শৃংখল ,বীর সন্তান বল।
কত শত বীর সন্তানের বাজি রেখে জীবন
ভারতবর্ষ হয়েছে স্বাধীন আপন মহিমায় লীন।
স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলিত চূড়ায় চূড়ায়।
গর্বে মোদের বুক ভরে ওঠে অহংকারের শেষ সীমায়।
স্বাধীনতার বর্ম, মায়ের আবরণ
রক্ষা করার নিতে হবে পন।
বিনিময়ে যা কিছু মূল্য ,সবই ম্লান।
মহামানবের আত্মার স্মরণ
স্বাধীনতা দিবসের সঠিক মূল্যায়ন।।

…………………………………………………………………………

প্রশ্ন
-পার্থ চৌধুরী

নারী তুমি কি সত্যি পুরুষ বিদ্বেষী?
না এটা তোমার ছলনা।
আতীতদিনের লজ্জার ভূষণ পড়ে থাকা নারী তো তুমি নও,
রীতিমতো জিন্স আর ছোট্ট টি-শার্টের আবরণে
বা অনেকটা কাঁটা টপ,
অথবা যৌবনের সমস্ত রেখা প্রকট করা শরীরে সেঁটে বসে থাকা কুর্তা।
তুমি যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটো তখন ভীষণ গম্ভীর
দেহ সৌষ্ঠবে গর্বিত।
রাস্তার আশেপাশের পুরুষদের দৃষ্টির লেহনে খুব বিরক্ত।
মোরের মাথায় বেকার ছেলেগুলোর টিটকারিতে দারুণ ক্ষুব্ধ।
ঠিক করেছ একদিন লাগিয়ে দেবে একটা চড়।নারী তুমি কি অস্বীকার করো প্রকৃতির নিয়মে পুরুষ তোমার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে তোমাকে চাইবে?
নারী তুমি একদিন পারো না ওই বেকার যুবকগুলো সামনে দাঁড়িয়ে হেসে বলতে বন্ধুরা কেমন আছো? পারো না বলতে আজ আমাকে শাড়ি পড়ে দেখতে কেমন লাগছে?
মাটির ভারে চা খেতে খেতে একদিন বলোনা আয় সবাই মিলে একটা ছোট্ট ব্যবসা করি, আমিও তোদের সঙ্গে আছি।।

…………………………………………………………………………..

How important is Mother?

    -Gunjan Roychowdhury

How important is Mother?
Does anyone has any answer?
She is the gush of fresh wind that freshens us,
She is the Ointment of all our doubts and cuts.

She is an angel,
Blessing us raising both her hands,
She is the most important and priceless brand of all brands .
She is our soul ,she is our life,
She wipes away all war and strife.

Mother you are a gem,
You taught me to play the life’s game.
Mother you are the cool flowing fall
Mother you are the recovery from all the fall.

Mother you are so special,
Mother you are so dear, Always stay by me very near

By- Gunjan Roychowdhury

……………………………………………………………………….

Confidence

   -Dr. Sutapa Bose

Confidence is an attribute that is to be manifested,
It is something which cannot be borrowed or requested.
Confidence means you are brave,
Or else you’ll have to find a place in a grave.

Confidence means to fight with a sword,
Confidence says many things without uttering a single word,
Confidence means your mind is not narrow,
Confidence follows you removing all sorrows.

Confidence means this
Confidence means that,
It is really a wisdom’s cap,
Confidence is strength,
Confidence is mankind’s wealth.
So with confidence celebrate life and give it a joyful clap.

……………………………………………………………………………

জীবন

-সুপ্রিয়া বিশ্বাস

জীবন মানে নদীর মতো অনেকটা,প্রতিনিয়ত সে বয়ে চলে,আবার মাঝে মধ্যে কখনো সখনো কোথাও না কোথাও আটকা পড়ে,কখনো বা ধীর গতিতে চলে কখনো বা দ্রুত গতিতে,জীবনে যেমন আনন্দ উল্লাস আসে একটা সময় বেশি বেশি করে,সেরকম নদীর জলকেও মন দিয়ে দেখলে বোঝা যায় নদীর জল ও বড্ড বেশি চকচক করে মাঝে মধ্যে, সেও বোধহয় তখন বড্ড খুশিতে থাকে,নদীর জলেও কাদা থাকে, নোংরা পড়ে , জীবনের আঁকাবাঁকা পথেও সুখের মতো দুঃখ আসে, আসে বেদনা ক্লান্তি, বেদনা ক্লান্তি পিছনে ফেলে ঠিক নদীর জলস্রোতের মতনই জীবনে ও এগিয়ে চলে,
কখনো মুক্ত বাতাস,মাঝে মাঝে বদ্ধ বাতাসের ও গন্ধ পাই, সুগন্ধি ফুল ফুটলে যেমন গন্ধ আসে চারিদিকে,
গন্ধরাজের গন্ধে যেমন মম করে চতুর্দিক,জীবন ও মাঝে মাঝে এত সুগন্ধি তে ভরে যায়,
চারিদিকে তার প্রস্ফুলন ঘটে,
নদীর জলের বাকের মতো সুখ দুঃখের ঘরা গুলিও উঠানামা করে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত, জীবন বোধহয় এরই নাম,
জীবন মানেই তো সংগ্রাম বেঁচে থাকার লড়াই ভালোবাসার যুদ্ধ, তারি মধ্যে সহস্র ফুল ফোটে, আবার সে ফুল মাঝেমধ্যে ঝরেও পরে ,জোর করে ধরে রাখা যায় না সে ফুল।
কালের নিয়মে এসে ঝরে পড়বেই,
আমরা যে বাঁধা একজনের কাছে,সে থাকে আমাদের সবার সঙ্গে ঘর করে আশ্রয় দেয়,কিন্তু সে তো অদৃশ্য |
নদীর জলের মতো, জীবনের গতি
তিনিই নির্ধারণ করে থাকেন,
তাই সব কিছু মেনে নিয়ে নদীর জলের মতো ইচ্ছেমতো বয়ে যাও, যেখানে শান্তি সেখানে আশ্রয় নাও|

……………………………………………………………………………..

আমি নেতা

  -বিশ্বনাথ চৌধুরী

আমি বলছি উঠতে তোমায়
কোমরে যতই ব্যথা থাক্
অকারণে হাসতে হবে
যতই তোমার কান্না পাক্।

আমি বলছি চলতে তোমায়
সামনে যতই গর্ত থাক্
পাহাড়টাও ডিঙতে হবে
যতই থাকুক সামনে বাঁক।

আমি যা বলি সেটাই ঠিক
যতই সেটা হোকনা ভুল
যা খুশি তাই বলো তোমরা
আমিই আসল আমিই মূল।

ভেবে ভেবে হয়তো তোমরা
বলার কিছু চেষ্টা করো
তোমাদেরকে মানতে হবে
আমিই হলাম সবার বড়।

আমি নেতা এই কথাটা
সবসময়ে কেতাবে নয়
মন থেকে সব মানতে হবে
কাটাতে হবে সবটা ভয়।

…………………………………………………………………………

THE INNER PEACE
   -Trimohini Dhar

The wind whistle past my ears
Chasing my eyes, I lose all my fears
The waves crash into the necks
Out there is no time on my clock.

The serenity I feel here soothers my mind
A peaceful day is so hard to find.
The breeze first clams my soul.
It helps one think about what is my life’s goal.

I then look out over the ocean,
And it feels like my life has lost its commotion
The sun sets down over the clouds,
But the orange glow around me makes me proud.

……………………………………………………………………….

কলতান 

-অনুরাধা চক্রবর্ত্তী

ভোরের পাখি ডাকছে তোমায়
গাইছে দাখো মিষ্টি গান,
ঐ সুরেতে মন জুড়ালে,
উঠবে ভোরে তোমার প্রাণ।

দোয়েল যখন মিষ্টি সুরে,
ভরিয়ে দেবে প্রাণ,
চোখ জুড়াবে তখন দেখো
উঠবে নেচে প্রাণ।

একটু পরে, বেলা হলে
আসবে চড়ুই পাখি,
সারাদিনের কিচির মিচির,
বুজবেনাকো আঁখি।

ছোট্ট ফুলে, দুলে দুলে,
বসবে মৌটুসী আর বুলবুল,
মন জুড়াবে, চোখ জুড়াবে
নড়ছে ডানা তুলতুল।

এমনি আরো হাজার পাখি,
গাইছে হাজার গান,
একটু ওদের সময় দিও,
জুড়িয়ে যাবে প্রাণ।।

……………………………………………………………………….

“চাওয়া পাওয়া”
– শ্রী সুবোধ চন্দ্র সরকার, এম.কম., এল.এল.বি. (আইনজীবি)

কে কখন কি চাই নিজেই জানেনা,
কাঞ্চন চেয়েও কাঁচ হয় পাওনা৷
আসল নকল না বোঝে তখন,
লোভে মোহান্ধে হয় পতিত যখন৷

চোখের বাহার রূপের পসরা যায় না চেনা,
তাইতো বলে চকচক করলেও হয়না সোনা৷
রূপের বাহারে কারও কি আসে যায়,
মনের মতো বন্ধু কুরূপাও দেখা পাই৷

ভালো বাসতে যদি মন না চায় বেসোনা,
তবু ঘৃনা কি করুণা কাহারেও করোনা৷
হৃদয়ে সবার আছে বিধাতার আশীর্বাদ,
সুযোগ সুবিধা লভিলে করিবে যে বাজি মাত৷

অন্ধকার আছে যেমন আছে তেমনি আলো,
বিধাতার সৃষ্টি সকলই যা কিছু মন্দ ভালো৷
অন্তরে দিওনা কারেও আঘাত পাইবে প্রতিঘাত,
দেওয়া নেওয়া চক্রাকারে ঘুরিছে দিবা রাত৷

“জীব সেবাই শিব সেবা” বলেছেন বিবেকানন্দ,
অন্ধজনে দিলে আলো লভিবে পরমানন্দ৷
সৎভাবে কর চেষ্টা ধরায় বাঁচিবারে,
সিদ্ধিলাভ হবে নিশ্চয় সুফল পাইবে অচিরে৷

……………………………………………………………………..

গাজনের গান

-অনিমেষ মুখার্জি

জেগে থাকি। তোমার অন্তরে
অসীম আকাশ দেখে শান্ত হই –
বিপরীতে স্রোত ভেঙে সীমান্তের দিকে চলতে থাকি
আহত ভালোবাসা।
তবু চলতে থাকে চাকার ঘর্ষণ –
ভোর হয়ে ওঠে- বালিকা পাখিরা
প্রভাত সংগীত গায়!
তারপর উড়ে যায় আকাশের মূর্ধায়।
সকাল হলে চৈত্রের গঞ্জে গাজন সন্ন্যাসীর গান ওঠে।
চাকার আলো – অন্ধকার ফিরে ফিরে আসে।

নিঃশব্দে শিশিরের মতো অশ্রু ঝরে
পাখিরাও গভীর রাতে
মাঝে মাঝে বেদনায় সাড়া দেয়
নদীর স্রোত ভেঙে আহত হৃদয়
চুপি চুপি কথা বলি চাদের মোহনায়।

…………………………………………………………………………………

অন্ধকারের যাত্রী

  -শুভ্রজিৎ লাহিড়ী

ফুরিয়ে আসছে দ্বিপ্রহরের আলো ,
আঁধার হানবে কালবৈশাখী ঝড়।
আমি হারালেও আঁকড়ে রেখো তুমি
আমাদের না গড়া স্বপ্নের ঘর।

যুদ্ধ সদাই অসম হয়, জেনো।
নিভে যায় কিছু সৎ ইচ্ছার আলো।
বন্দী সবাই যে যার চার দেওয়ালে
মুক্তির পথ কে জানে কে থমকালো?

দখলদারির রণনীতি আজও বহাল!
জনপদে নয়, কারফিউ মগজেতে ।
ভিক্ষার অন্নে তৃপ্তি নিয়েছি খুঁজে,
অধিকারবোধ ভুলেছি কি সহজেতে।

জীবনে যখন সন্ধ্যার ছায়া নামে,
পিছুটানে কত ভুলতে না পারা ক্ষত।
আজও স্পষ্ট ছেড়ে যাওয়া মুখগুলি,
আঁকড়ে ছিলাম যেখানে, যাকে, যত!

ভগবানও আজ ছেড়ে ভক্তের হাত
নিরাপদে আছে পুঁজির পুতুল হয়ে !
যুধিষ্ঠিরও মিথ্যাচারী হলেন
রাজার আসন হারিয়ে ফেলার ভয়ে!

তবুও আজও ভালোবাসে কিছু জনে।
জানে না, শেষে কে সাথ দেবে কার?
ধ্রুবতারা নয়, হয়ো জোনাকির আলো
ঠিক ডাক দেবে আঁধারের অভিসার!

ফুরিয়ে আসছে দ্বিপ্রহরের আলো
এবার কি তবে হতে হবে নীরব?
জীবন এক বিচিত্র রূপকথা;
শব হলেও, ফুরিয়ে যায় না সব।।

…………………………………………………………………………………

২৬ শে জুন

– অমিথ্যাবাদী

ও মশায় শুনুন
আজকে ২৬ শে জুন।
তাতে কি? ভাবছেন তো, ছুটি কই?
ছুটি কি মশায়, খাটনি বাড়লো। পুরনো বই
পড়তে হবে, যেগুলো অবিস্মরণীয়, আজও নতুন।
অতীতকেই আজকে না হয় আর একটি বার শিখুন।

রাখ-ঢাক কিসের, সত্যির আবার সাজ-সজ্জা কি?
মায়ের বন্দনাটুকু করবেন, তাতে লজ্জা কি?
চলুন না, জাত-ধর্মের প্রতিবাদ দোহাই
পরোয়া না করে উদাত্ত কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’ গাই।
সমস্বরে সুজলাং সুফলাং ঐকতান তুলুন।
আজকে ২৬ শে জুন।

স্বাধীনচেতা নারীদের ওপর নৈতিক পুলিশি দাপট
দেড় শতাব্দি পেরিয়েও কিন্ত হয়নি সেটা লোপাট।
কিন্ত বীরেন্দ্র সিংহের বিধবা স্ত্রী বিমলার কথা ভাবুন।
পাঠান নবাব কতলু খাঁকে হত্যা করলেন যিনি
সেই মহীয়সী নারী বুঝি সাধারন এক গৃহিণী?
নাকি ছাইচাপা আগুন?
একটিবারের জন্যে না হয় হৃদয়াঙ্গম করুন।

কুমার জগৎ সিংহের ত্রিকোণ প্রেম বুঝি সর্বনাশা?
দুর্গেশনন্দিনী তিলোত্তমা ও নবাবজাদী আয়েষা —
অত্যুজ্বল প্রেম জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে কতটা, বুঝুন।
তার স্রষ্টাকে জানুন, তাকে পড়ুন।
আজকে ২৬ শে জুন।

কৃষ্ণকান্তের উইল যদিও পাল্টেছে বারবার,
তবুও তো লাস্যময়ী, চঞ্চলা, বুদ্ধিমতী
এবং অবশ্যই যিনি পরম রূপবতী,
সেই বিধবা রোহিণী পেলেন প্রেমের অধিকার।
এ বুঝি মান্ধাতার আমলের গল্প?
নাকি এতে ভরপুর আধুনিকতার গুণ?
আজন্ম বঞ্চিতা, অবহেলিতা নারী যিনি
তিনিই হয়ে উঠলেন নেত্রী, দেবী চৌধুরানী।
সেই সাহিত্য সম্রাটের কথা আজ একটু ভাবুন।
আজকে যে ২৬ শে জুন।

চন্দ্রশেখর হয়ে উঠুক আপনার প্রিয়,
সেইসাথে বিষবৃক্ষ কিংবা যুগলাঙ্গুরীয়।
কপালকুণ্ডলায় রোমান্টিক সমাজটাকে খুঁজুন।
রজনীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ভরপুর আধুনিকতায়
আবার আনন্দমঠ, রাজসিংহ, মৃণালিনীর পটভূমিকায়
উপন্যাসকে পরালেন যিনি ঐতিহাসিক সাজ,
তিনিই দেখালেন বিষবৃক্ষে সমকালীন সমাজ।
ঔপন্যাসিককের প্রতিভার গভীরতাটা বুঝুন।

ধূপকাঠি কি হবে? এটা পুজো আচ্চার ব্যাপার নয়।
দু’শ বছর দেরি হয়ে গেছে, তবুও মহাশয়
আজ থেকে শুরু করুন। তাঁকে পড়ুন, তাঁকে বুঝুন।
আজকে সেই ঋষির জন্মদিন, আজ ২৬ শে জুন।

…………………………………………………………………………………

তোমার কথা 
  -শিল্পী দাস 

চঞ্চল চৈত্রের রাতে আমাকে সে নিয়েছিলো ডেকে,
চাঁদের আলোয় ভরে ছিলো রাতের তপস্বী পৃথিবী। ,
ঝরা পাতার শব্দ বেজে ছিলো নুপুরের সাথে।
কাজলের মুগ্ধ টানে, যে চোখ হয়েছিল দিঘি
আমি কতো কি যে লিখেছি সেই রাতে।
ঠোঁটের স্পর্শের ফলিত উত্তাপে।

সেই চোখ জুড়ে আজও, রৌদ্রের উষ্ণতা পাতা
হাজার পান্ডুলিপি জুড়ে লেখা তোমার কথা।
প্রশান্ত প্রগাঢ় অনুভবে তুমি আছো নিরবে
প্রেমের আলিঙ্গনে আপ্লুত হৃদয় সঙ্গমে।
নব বিলাসে মল্লিকার মতো চুম্বন রাগে
মানস প্রতিমা হয়ে হৃদয়ে খুব সঙ্গোপনে।

…………………………………………………………………………………

একাত্ম প্রকৃতি

-প্রফেসর ডক্টর তিন্নি দত্ত

মানব সভ্যতার অন্তরালে
শান্তিনিকেতনের ঘন জঙ্গলের মাঝে
বসে আছি আমি নিরালয়ে নির্জনে
ভোরের সূর্য যেন বাড়িয়েছেন তাঁর আশীর্বাদের হাত।
তাঁর কিরণ সুধাপাত্রকে সঙ্গে করে
লেখনী পেয়েছে শক্তি।
শুনতে পাচ্ছি প্রাণীদের কোলাহল , পাখির গুঞ্জন ,
প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতার এক অনন্যময় আনন্দ।

…………………………………………………………………………………

জননী

-জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

আমার মাথায় আছে তোমার হাত কোমল ছায়া ব্যাপ্ত ভুবন জুড়ে তুমি আমার সান্ধ্যদীপের ভাষা কণ্ঠ আমার বাজে তোমার সুরে।
তুমি আমার মাতা, বসুন্ধরা মাতৃভাষায় স্বপ্ন-জাগরণ
তুমি আমার এগিয়ে চলার দিশা গীতা-কোরান-হাদিস-রামায়ণ।
তুমি আমার উতল মন্দাকিনী
একুশ-উনিশ গর্ব অঙ্গীকার
ব্রজবুলীর দীপ্ত মোহন সুর
বাংলা প্রাণে বিশ্ব পারাপার।
পেয়েছি পাঠ মানবপ্রেমের ভাষা
মেলবন্ধনে দূর-দিগন্ত পাড়ি নীল আকাশে একই শামিয়ানা সমন্বয়ে বেজেছে দরবারী।
আমায় ছুঁয়ে তোমার স্বপ্ন আশা
একক আমি বহুর মধ্যে বাস
তুমি আমার প্রেরণা-রূপকথা
স্নেহের আঁচল, আশ্রয়, আশ্বাস।

…………………………………………………………………………………

বিকিকিনি

-কৃষ্ণেন্দু দত্ত

পৃথিবী একটা উন্মুক্ত বাজার

সকাল গড়িয়ে যায় সন্ধ্যায়

ব্যাপারীর ব্যস্ততা বিরামবিহীন

সন্ধ্যার শেষ আলোর ছিটে ফোঁটা টুকু

রাত্রির গভীরে মাথা দিলেও,

যদিও প্রয়োজনমতো-

পরিবর্তিত হয় বিনিময় মূল্য

কামিনী-কাঞ্চন-ক্ষমতা,

কেনাবেচা চলতে থাকে-

খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা স্বাস্থ্য

স্নেহ,প্রেম, শ্রদ্ধা, অশ্রু, মাতৃগর্ভও

যত ভালো প্যাকেজিং তত বেশি সেল

শুধুমাত্র বদলাতে থাকে পরিচয়

প্রবল বাতাসে।

নির্যাতিতার কবরের উপরে দাঁড়িয়ে

আততায়ীও বিজয় পতাকা ওড়ায়।

…………………………………………………………………………………

छू लो मुझे

-डा० अरुण कुमार

बस छु लो मुझे
तुम प्यार से,
रोम रोम मे लहराता दर्द
दवा बन जाए।

बुदबुदाओं ओठों से
मंत्र कोई ऐसा,
आत्मा की गहन पीड़ा
दुआ बन जाए |

मेरी हाथों को
थाम लो अपनी हथेलियों में
बैठो पास मेरे
भीगी वाणी छलछला जाए।

आओ अंजुरी भर-भर लो
गालों पर छलकते आंसु,
खारा पानी
मोती बन जाए।

पीर बसा लो मेरी
हृदय में अपने,
आती जाती श्वास
अमर प्राण हो जाए।

…………………………………………………………………………………

A Poem for You and Me

   -Ishita Ganguly

I wrote a poem for you and me.
If you are like me
With a heart full of love
Tired of pouring to empty cups,
This is for you if you are the dreamer
Who died in the dream.
This is for the one
Who pretends to be happy,
This poem is for the boy mocked in class,
For the girl who is desired but never loved.
This is for the one who is tired of giving
And receiving nothing.
This is for the caring who is never cared enough.
Know that people can’t reciprocate you
Because they are unable to.
You are the chosen one
To live in a world full of fakes.
You are special
And you have every reason to celebrate.
Leave who left,
Forget who forgot,
Keep shining
As the jewel you are.

…………………………………………………………………………………

স্বপ্ন

~কাব্য কথায় লোপা
© সীমা দাস

স্বপ্ন, কেউ দেখে জেগে
কেউ বা অর্ধ জাগ্রত অবস্থায়।
কেউ বিভোর হয়ে, কেউ বা হতবাক।
কেউ বা দেখে আনন্দ উচ্ছ্বাসে,
কেউ বা চোখের জলে ভাসে।

স্বপ্ন, সেকি শুধুই স্বপ্ন!
নাকি মনের চরিত্রের কাল্পনীয় রূপ।
বাস্তবের মোড়কে মোরা এক
আবেগ মিশ্রিত কাল্পনীয় বিবেক ।

বাস্তবের সীমারেখার সীমা ছাড়িয়ে,
কল্পনার অলীক জগতে
যার অবাধ প্রবেশ,
সেই স্বপ্ন ; হাল্কা নীল রঙ-এর
মধ্যে যার প্রকাশ।
বাস্তবে তার মিল কোথায়?

সে থাকে গোপনে,
আমাদের মনের মণিকোঠায়।
যে কথা থাকে একান্ত গোপনে,
বাইরের উজ্জল আলোয়
যার প্রবেশ নিষেধ,
স্বপ্নের মধ্যে আমরা তাকেই
পেতে চাই বারংবার ।
হাতের মুঠোয় পেতে চাই
সেই না পাওয়া অব্যক্ত চরিত্রটাকে ।

জানি স্বপ্ন, সেতো স্বপ্নই ;
শুধু আমার,
একান্ত ভাবেই আমার,
একান্ত আমারই।।

………………………………………………………………………………

মুল্য
 – শুভ্র ব্যানার্জী (কাল্পনিক)

মাটির ভাড়ের মূল্য কজন বোঝে
যাঁরা কুম্ভকার তাঁরাই এর মূল্য বোঝে,
জুতো তো আমরা সবাই পরি
চামারের মূল্য কজন বুঝতে পারি।।

দৃষ্টি শক্তির মূল্য কজন বোঝেন
একমাত্র অন্ধেরাই বোঝেন
ভাষার মূল্য বোবারাই বোঝেন
শব্দের মূল্য কালারা বোঝেন।।

চলার শক্তি যাঁদের থাকে না
হাঁটার মূল্যও তিনি বোঝেন না,
যখন ডাক্তার হাঁটতে বলেন
তখন তিনি হাঁটার মূল্য বুঝতে পারেন।।

প্রতি দিন কত অসহায় অবলা প্রাণীর প্রাণ যায়
সেই সব প্রাণীর জীবনের মূল্য কোথায়?
আমরা তো নিজ স্বার্থ ছাড়া তো কিছুই ভাবি না
প্রতি নিয়ত মূল্যবোধের করি অবমাননা।।

যখন যার যতটুকু দরকার পরে
তঘন সে সেটুকুই মূল্য বুঝতে পারে,
একটা সময়ের পর তার মূল্য কি পাই?
আমরা মূল্য দিতে গিয়ে কত সুন্দর জিনিসকে হারাই।।

………………………………………………………………………………

কাজের মেয়ের উপলব্ধি
    -রাখী রায় ব্যানার্জি

সপ্তাহ কাটে কাজের চাপে।
অন্য বাড়ির ফরমাস খেটে।
সময় কোথায় নিজের জন্য?
সংসার সেবায় পুরোপুরি মগ্ন ।
কিন্তু একটা দিন তো হতেই হবে তার।
যীশুর কাছে যেতেই হবে, হলেই রবিবার।।
নেই যে স্বপ্ন, জীবন পরিকল্পনা,
চলতে থাকে কাজের আনাগোনা।
অভাবের সাথেই যখন হয় জন্ম
বিরামহীন খেটে চলাই মহান ধর্ম।
কর্ম যে শাস্তি নয়, এতেই খুঁজি তৃপ্তি,
এই উপলব্ধি হয় তখন,যখন দেখি যীশুর মূর্তি।

…………………………………………………………………………….

চিরন্তন অবসর
      -মুনমুন বসু

বয়স তো হলো ষাট বছর,
এখন দীর্ঘ অবসর।
মাসের প্রথমে পেনশন,
আর মাসের শেষে টেনশন।
পেপার পড়ে জলখাবার,
প্রতিদিন করো হাটবাজার।
দুপুরে ঘুম ডাকিয়ে, নাক
লাঠি হাতে ইভিনিং ওয়াক।
পার্কে বন্ধুদের আনাগোনা,
বেঞ্চে বসে আলোচনা।
সন্ধ্যা হলে টাইম পাস,
চা খাওয়া আর সঙ্গে তাস।
আলসার আর ব্লাড সুগার
সঙ্গে আছে হাই প্রেসার।
রাতে খেয়ে দুধ রুটি
সেদিনের মতো হয় ছুটি।
এরপর ওষুধ খাওয়া
তারপর শুতে যাওয়া।
ঘুম যখন আসছে না,
মাথায় নানান চিন্তা ভাবনা।
শিক্ষিত হয়েও ছেলেটা বেকার,
চাকরি পেলে চিন্তা কি আর।
মেয়েটা গ্র্যাজুয়েট হলে,
খুঁজতে হবে ভালো ছেলে।
জীবন সায়াহ্নে এসে মনে হয় আজ,
অপরের জন্য কিছু করে যাই কাজ।

……………………………………………………………………………….

শিক্ষক 
   -বংশী বদন চট্টোপাধ্যায় (অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কসবা জগদীশ বিদ্যাপীঠ উ: মা, কলকাতা)

ব্রত যাঁদের শিক্ষকতা,ছাত্র গত প্রাণ, এই সুযোগে তাঁদের আমি জানাই সম্মান। শিক্ষা যে ভিক্ষা নয়,কেবল অধিকার, এই কথাটা র জন্য আমার আবার নমস্কার।
বিদ্যালয়ে যাঁরা শুধু প্রধান হয়ে আসেন,প্রাণের থেকে ও বিদ্যালয় কে বেশিই ভালোবাসেন।
প্রাথমিক,মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক যেমন স্কুলই হোক,প্রধান শিক্ষক সবার কিন্তু নিজের প্রিয় লোক।
সমিতি গড়া সবার জন্য,শিক্ষক বা শিক্ষা কর্মী,হোক না তাঁরা সমাজেতে অন্য কোনো ধর্মী,
বিদ্যালয় সবার কাছে এমন দেবালয়, জীবন্ত আর প্রানবন্ত মানুষের পূজা হয়।
তাই আজ যখন সমিতির বয়স পঁচাত্তর,আশা করবো এই সমিতি শত বর্ষ এর রাখবে উত্তরোত্তর।

……………………………………………………………………………

অঙ্গীকার

-গোপা মল্লিক

একদিন দুনিয়া থেকে যাবো সবাই চলে
দু”দিনের এই রঙ্গমঞ্চে যাবো খেলা খেলে
পুতুল নাচের ইতির আগে শখ ছিলো যা,
মিটিয়ে নেব সকল ইচ্ছে মনে ছিলো যা
ইচ্ছেগুলো স্বপ্নের মতো ঘুরতো আশেপাশে
বন্দি ছিলো এতদিন বাস্তবতার নাগপাশে
হঠাৎ যেনো পেয়ে গেলাম সব পেয়েছি আসর
ইচ্ছেগুলো ডানা মিললো কাটলো আঁধার ধুসর
ভালো থাকার মন্ত্র কেউ দেয়নি এসে
ভালোভাবে বাঁচতে শিখলাম নিজেকেই ভালোবেসে
মরণ তো একদিন সকলেরই আসে
কি হবে রাতদিন বয়সের অঙ্ক কষে!
এতদিন তো ডুবিয়ে ছিলে অতলান্তিক সাগরে
এখন আমি ভাসতে শিখেছি নিজের ডানার ভরে
দুঃখ দিতে দুঃখ ভীষণ মানুষ ভালো জানে
ক’জন মানুষ বাঁচতে শেখায় সুরে ছন্দে গানে!
আমার কাছে আমার জীবন মস্ত বড় দামি
জীবনে যত আঘাত পেয়েছি বুঝতে শিখেছি আমি
নতুন বছর নতুন আলোয় উন্মেষ হোক চেতনার
নব নব সৃষ্টির মাঝে উদ্ভাসিত হবো রইলো অঙ্গীকার।

……………………………………………………………………………

বাউন্ডুলে

-তুলিকা মজুমদার

বাউন্ডুলে, ছন্নছাড়া, সুতো কাটা ঘুড়ি,
মাথার উপর বিশাল আকাশ, ইতিউতি উড়ি।
লক্ষ্মী আমি নইকো মোটে, অলক্ষ্মীটাই বেশি,
স্রোতের বিপরীতে আমি ভাসতে ভালোবাসি।
নিজের মতোই চলতে গিয়ে, মেলি আমার ডানা,
বাধা নিষেধ সব উড়িয়ে, পেরোই সীমানা।
অবাধ্য আর গোঁয়ার ভারী,আবেগ পথে ভাসি,
বাউন্ডুলে, ছন্নছাড়া, বোহেমিয়ান বেশি।।

……………………………………………………………………………

सुगौली की संधि के बाद

-जीतेन्द्र जितांशु

तुम्हारे कंधों पर हिमालय
सुगौली की संधि को
दुबारा पढ़ें , हुजूर
अहिंसक नेपालियों की आस्था के प्रतीक
झंडे , पताकाएँ और उनसे गुजरती हवा ,
आस्ट्रेलियन माओरी , नेपाली सिपाही ,ख़ौफ़ भर जाता है !
ख़ौफ़ भर जाता है ,इतिहास की आँखों में।
भूख की गमक,
सिक्के की खनक
आस – पास नमूदार चरित्र
तिलक और तलवार के बीच हवा
सन्नाटा, बवंडर, धूल और धुँआ
इतिहास की एक और करवट!
कुछ तो है!
कुछ तो है, जो हम जमे रहे
टूटी चट्टान पर
समय मिला पूरी पीढ़ी को खड़े होने का ।
समय दर समय
परत दर परत
पन्ना दर पन्ना
और आख़िरी हस्ताक्षर
काग़ज़ पर
सुगौली की संधि के बरसों बाद ….
सुगौली की संधि को दोबारा पढ़ें, हुजूर ॥

……………………………………………………………………………

हर बात में खुश रहो

-मीनाक्षी सांगानेरिहै

छोटी सी ज़िंदगी है,
हर बात में खुश रहो
जो चेहरा पास ना हो,
उसकी आवाज़ में खुश रहो,
कोई रूठा हो तुमसे,
उसके इस अंदाज़ में खुश रहो,
जो लौट के नहीं आने वाले,
उन लम्हों की याद में खुश रहो,
कल किसने देखा है ,
अपने आज में खुश रहो,
खुशियों का इंतज़ार किसलिए,
दूसरों की मुस्कान में खुश रहो,
क्यूँ तड़पते हो हर पल किसी के साथ को,
कभी तो अपने आप में खुश रहो,
छोटी सी तो ज़िंदगी है,
हर हाल में खुश रहो.

……………………………………………………………………………

ঘুমন্ত পৃথিবী

-পলাশ আচার্য

আমি প্রতিদিন দেখছি-
তোমরা সবাই আসছো
প্রস্ফুটিত আশা নিয়ে।
তোমাদের আশার পাশে
আমি হই অজানা সহযোগী,
তোমাদের ঐ টুকুন খুশিতেই আমি তৃপ্ত।
তবু এক পরিচিত ভয়
এসে, নতুন প্রজন্মের –
গলা টিপে ধরে।
আমি পথ পাল্টাই না,
জানি, তাই –
সিংহের মতো গর্জাই-
যদি জেগে ওঠে ঘুমন্ত পৃথিবী।

……………………………………………………………………………

গোলাপ সম্পর্ক

-তুলিকা বসু চক্রবর্তী

তোর আমার “গোলাপ সম্পর্ক ” অনুরাগ ছুঁয়ে
সবার অলক্ষ্যে হৃদ্-মাঝে থেকে যাক _
তুই আমার আলোড়ন তোলা আন্দোলনের
যুগযুগ ধরে “মিছিল ” হয়েই থাক !!!!

কিছু সম্পর্ক “রাই-শ্যাম “হয়েই বাঁচুকনা !!!
জীবনের গোপন দ্রাঘিমাংশ জুড়ে অমলিন !!!
ভালবাসার পাটিগণিতে “যোগ বিয়োগ ” পালায় _
বরং তা হিসাববিহীন রয়ে যাক চিরদিন !!!!!

……………………………………………………………………………

তবু সে নদী

-আরতি দে

হিমালয় থেকে নেমে এল যে মেয়েটি
তার পায়ে মাথা কর নতজানু।
সমুদ্রের শরীরে যে বিলীন হয়ে গেল,
এসো তার ওই সজল চোখে স্নান করি।
নিশ্বাস প্রশ্বাসে করি তারই
জয়গান।
হোক সে খরস্রোতা তবু সে নদী–
তাকে জানাই নারীর সন্মান।
ভয়ঙ্করী রূপ ধরে পাহাড় থেকে ঊর্ধ্বশ্বাসে নেমে আসে ঝর্না।
অন্তর্নিহি ভালবাসায় বাঁচায় পৃথিবী।
এসো আমরা হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে সমুদ্র কিনারে বসি, অতীত দিই বিসর্জন।
মঙ্গল কামনায় মনটা এগিয়ে দিই মানুষের কাছে।
ছোট্টো একটি ঝিনুকের বুকে বসবাস করে দামী মুক্তো।
এসো আমরা মুক্ত কন্ঠে সুন্দর কে আহ্বান করি।।

……………………………………………………………………………

SAVE MY EARTH

-Alokesh Ray

“I love my earth”- That only do never say,
Think how to save earth and what is the way.
It is only possible when all creatures live,
Plant kingdom is required to give us life.
Trees are needed to give oxygen,
Water is needed to grow food grain,
Do not cut tree, this is desire,
Else life will perish and none will be there.
For all to survive this is the way.
On our earth, we all need to stay,
So save plant, save animal, save rain water,
Save Mother Earth and save life from disaster.

…………………………………………………………………………..

এক এক

-রুমা নাগ

এক এক করে দিন চলে যায়
একপা একপা করে জীবন
তার মাঝে এক এক করে
হিসেব নিকেশ করে কজন?
কী পাইনি আর কী পেলাম এক এক করে ভাবতে বসি
দিনের শেষে একপল একপল করে
আনন্দের সাগরে ভাসি

…………………………………………………………………………..

নতুন বছর

-চিত্রা সোম বাসু

নতুন বছর আগত,
স্বাগত তোমায স্বাগত
যাক পুরাতন জীর্ণ জড়তা
আনো তুমি শুভ নবীন বারতা
আনো আনন্দ আনো প্রশান্তি
ঢালো আলোকধারা নিয়ত
স্বাগত তোমায স্বাগত ।

…………………………………………………………………………..

 

****Disclaimer:–  ILF (International Literary Foundation) has published all writings in good faith WITHOUT  editing,  grammatical check-up, verification of copyright or creative right of anyone.

ILF believes that each writer or poet has contributed his/her own original composition.

**Pl note–If someone else than the contributor claims his/her copyright over the write-up, the poet/ writer has to justify his/her claim.

If found guilty of stealing or plagiarism, the contributor of that poem or composition is to be blamed and penalised.

###NO Blame or NO Bad Remark must come up against  the publisher, printer or ILF.

***We humbly submit that ILF (International Literary Foundation) has published the writings to promote literature and not for any other reason or motive.

-Statement issued by Asish Basak, Chairperson of ILF

 

“ILF 100-te 100” is a compilation of 100 poems, short stories, creative compositions and literary facts.

The book reflects the passion and potential of 100 literary talents.

This book is the 1st ever Sharadiya edition of ILF Publications, promoted by INTERNATIONAL LITERARY FOUNDATION (ILF).

ILF is a Consortium of Writers & Poets.

ILF believes in the motto of “LITERATURE FOR ALL”, irrespective of his/her mother tongue, gender, social status and ethnicity.
INTERNATIONAL LITERARY FOUNDATION is the brain-child of its Founders Dr. Samir Shil, D. Lit. (eminent author, poet, Rabindrik research scholar & orator) and socio-cultural motivator Asish Basak

ILF is committed to promote all types of literary products and services through regular publications, various events and news-media promotions.

Miscellaneous initiatives of ILF is ideated & executed by ILF’s Founder-Chairperson Asish Basak, a dynamic socio-cultural influencer, journalist, author & film-maker.

“ILF 100-te 100” is the 1st step towards re-creating and re-orienting the literary world.

**ILF query:- 9339228087

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *